৪৩ তম বিসিএস পরীক্ষার সংশোধন করা হয়েছে আবেদন যোগ্যতা ও আরো কিছু বিষয়

Share This News

বাংলাদেশ কর্ম কমিশন ৪৩ তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদনের সময়সীমা আরো তিন মাস পিছিয়েছে । আবেদনের সময়সীমা সাথে পেছানো হয়েছে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময়। সোমবার ২৯  শে মার্চ বাংলাদেশ কর্ম কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়। বর্ধিত সময় অনুযায়ী আগামী ১৫  ই অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত এই ৪৩ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

৪৩ তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদনের সময় বর্ধিত করার পাশাপাশি কিছু নতুন নিয়ম সংযোজন পিএসসি । স্নাতক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত না হলেও শিক্ষার্থীরা বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবে। যা সাময়িকভাবে গ্রহণ করা হবে।

৪৩ তম বিসিএসের সংশোধিত নির্দেশনাগুলো হলো-

যদি কোনো প্রার্থী এমন কোনো পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন যে পরীক্ষায় পাস করলে তিনি ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন এবং যদি তার ওই পরীক্ষার ফলাফল ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদনপত্র দাখিলের শেষ তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিত না হয় তাহলেও তিনি অবতীর্ণ প্রার্থী (অ্যাপয়োর্ড) হিসেবে অনলাইনে আবেদনপত্র দাখিল করতে পারবেন। তবে তা সাময়িকভাবে গ্রহণ করা হবে। কেবল সেই প্রার্থীকেই অবতীর্ণ প্রার্থী (অ্যাপয়োর্ড) হিসেবে বিবেচনা করা হবে যার স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সকল লিখিত পরীক্ষা আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ অর্থাৎ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়েছে।

৪৩ তম বিসিএস  প্রিলিমিনারি পরীক্ষা,  আগামী ১৫ ই অক্টোবর দেশজুড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা,  বরিশাল, সিলেট, রংপুর,ময়মনসিংহ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

বর্ধিততারিখ অনুযায়ী আবেদনের শেষ তারিখ হিসেবে গৃহীত করা হয়েছে আগামী ৩১ শে জুন ৬ টা পর্যন্ত।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রায় সকলেরই  কমবেশি স্বপ্ন থাকে বিসিএস পরীক্ষা দেওয়া বিসিএস এ চান্স পাওয়া।  আর স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে আমরা অনেকে প্রস্ততি নিয়ে থাকে  বিসিএস পরীক্ষার জন্য। বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য প্রথমে আমাদের যে জিনিসটি জানতে হবে সেটি হচ্ছে বিসিএস  পরীক্ষার  সিলেবাস সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ  ধারণা।

 যেকোনো চাকরির পরীক্ষায়  প্রথমে যে সিলেবাস সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকে তখন আপনার জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ হবে এবং পরিকল্পনা তোইরি করে সেই অনুসারে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন।

বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রথমে যে জিনিস টা প্রয়োজন সেটা সেটা হলো নিজের পরিকল্পনা এবং সে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া।

 বিসিএস সর্বাধিক সেগুলোর উপর আমাদেরকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে আর যেগুলো খুব তেমন একটা আসেনা সেগুলো আমাদের কম  গুরুত্ব দিলে হবে।

প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে বিগত ১০থেকে ৪০ তম বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি প্রশ্ন গুলো দেখে  পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া। 

BCS preliminary syllabus

 বিসিএসে মোট দশটি বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে-

 দশটি বিষয় হলো-

 বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

 ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য

গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা

 সাধারণ বিজ্ঞান

 কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি

 বাংলাদেশ  বিষয়াবলী

 আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী

 ভূগোল

 পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

 নৈতিকতা মূল্যবোধ ও সুশাসন

 প্রতিটি বিষয়ে  ন্যূনতম  একটি ভাল মানের বই   সংগ্রহ করে  পড়লে হবে.

BCS Exam Preparation

প্রফেসরস/ওরাকল/এমপিথ্রি  পড়তে পারেন বাংলা, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা ও সাধারণ বিজ্ঞানের জন্য । অথবা আপনার  পছন্দের প্রকাশনীর বা লেখক এর যেকোনো বই।গণিতের জন্য সমাধান করতে পারেন ক্লাস ৫ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গনিত বইয়ের গানিতিক সমাধান। বাংলা ব্যাকরণের জন্য পড়তে পারেন ৯ম-১০ ম শ্রেণির বাংলা ২য় পত্র। 

 যে বই কিনেন না কেন আপনার নিয়মিত পড়ায় নির্ভর করবে আপনার সফলতা এবং আপনার বিসিএস প্রিলিতে উত্তীর্ণ হওয়া।

 কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তির জন্য ইন্টারমিডিয়েট  শ্রেণীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পড়তে পারেন। অথবা বাজারে বিসিএস এর জন্য আলাদা তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক বই পাওয়া যায়  সেগুলো ভালো মানের দেখে একটা কিনে পড়া শুরু করেন।

ইংরেজির জন্য জনপ্রিয়  প্রফেসরসের ‘ইংলিশ ফর কম্পিটিটিভ এক্সাম’ বইটি দেখতে পারেন।

ভূগোল ও নৈতিকতার জন্য আলাদা বই কেনার প্রয়োজন হয়না ডাইজেস্ট বই থেকে দেখে নিলেই হয়।

প্রিলি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ মুহূর্তে  প্রস্তুতিসংক্রান্ত মাসিক ম্যাগাজিনগুলোর প্রিলির বিশেষ সংখ্যা এবং প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট থেকে আপনার প্রিপারেশনের শেষ প্রস্তুতিটা করে নেবেন।

আরেকটু বাড়তি প্রস্তুতির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের কিংবা আরিফুর রহমানের লেখা বাংলাদেশের সংবিধান, বাংলার জন্য ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং অগ্রদূত বাংলা, ইংরেজি সাহিত্যের জন্য শরীফ হোসাইনের প্র্যাকটিক্যাল হ্যান্ডবুক, গ্রামারের জন্য মাস্টার, গণিতের জন্য খায়রুলস বেসিক বা শাহীনস ম্যাথ, বিজ্ঞানের জন্য জামিলস বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য আজকের বিশ্ব বইগুলো দেখতে পারেন।

আশারাখি উপরের বইগুলো  ফলো করলে আপনি বিসিএসে  প্রিলিতে ভালো করার সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যাবে। উপরের সিলেবাস অনুসরণ করে প্রতিদিন  অধ্যবসায় এর  সাথে আপনি আপনার প্রস্তুতি চালিয়ে যান । সবচেয়ে সেরা প্রস্তুতি হচ্ছে আপনার মনোবল তৈরি করা এবং প্রতিদিন সকল বাধা অতিক্রম করে নিজের প্রস্তুতিকে সাজানো এবং নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া। আপনি যখন আপনার লক্ষ্য অটুট রাখবেন দেখবেন সফলতা আপনা-আপনি আপনাকে হাতছানি দিচ্ছে। আশা রাখি আপনার স্বপ্ন বাস্তব হোক।

আরো পড়ুন-

Common Spelling Mistake BCS & Bank Job Exam

বিসিএস পরীক্ষায় ভূগোল বিষয়ে আসা কিছু কমন প্রশ্ন


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *