পরে অনুশোচনা না করে; জেনে নিন সন্তানের প্রতি যে আচরন করবেন না

Share This News

সন্তানকে মানুষ হিসাবে ঘড়ে তোলার জন্য মা-বাবার অক্লান্ত পরিশ্রমের সীমা থাকে না।অনেক সময় সন্তানের প্রতি এমন আচরণ করা হয় যা সন্তানের সুস্থ মেধা বিকাশের ব্যাঘাত ঘটায়।

তাই জেনে নিন সন্তানের প্রতি যে আচরন করবেন না-

আপনার সন্তানকে সারাক্ষণ বকাবকি মারধর করবেন না । মা-বাবার সারাক্ষণ বকা ঝকা আর মারধর সন্তানকে সন্ত্রস্ত করে রাখে যার ফলে শিশুর আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা বলেন এতে  শিশুদের মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি আপনার সন্তানের লেখাপড়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। সন্তানের সঙ্গে খারাপ আচরণ স্থায়ীভাবে আপনার সাথে সন্তানের  সম্পর্ক খারাপ হয়ে যেতে পারে। যা  আর  কোনো দিনই হয়তো ঠিক হবে না ।তাই সন্তানকে শুধু তখনই শাস্তি দিন যখন প্রয়োজন এবং যুক্তিসঙ্গত।

বিশেষ দিনগুলোতে তার পাশে না থাকা, সারাদিন আপনাকে পেশার হাজার টা কাজ  সামলাতে হয় এর মাঝেও  আপনার সন্তানের এমন কিছু সময় আছে যেদিন আপনাকে বিশেষভাবে দেখতে হবে। হয়তো তার স্কুলের পুরস্কার বিতরণীর দিন যেদিন সে  পুরস্কার পাবে। বিষয়টা  আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না হতে পারে কিন্তু তার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।কাজেই সেখানে আপনার  উপস্থিতি আপনার সন্তানের কাছে একান্ত কাম্য।

 ছুটির দিনে আপনার সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বের হোন।ঘর সাজানোর কাজে আপনি আপনার সন্তানকে আপনার পাশে রাখুন।তাকে একটু একটু কাজ শিখিয়ে দিন এবং তার কাজের প্রশংসা করুন।আপনার সন্তানকে সময় দিন আজকে যদি আপনার সন্তানকে সময় না দেন তাহলে এমন একটা সময় আসবে যখন আপনার জন্য আপনার সন্তানের কাছে কোন সময় হবে না।

আপনার সন্তান যখন খেলাধুলা করে  তখন অবশ্যই আপনি আপনার নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারেন  কিন্তু খেয়াল রাখবেন এটা যেন আপনার অভ্যাস না হয়ে যায় । কারণ আপনি তার পাশে শুধু শারীরিকভাবে আছেন এটাই যথেষ্ট না , যদি না সে আপনাকে আবেগীক ভাবে না পায়।

বর্তমানে  কিছু মা-বাবা আছেন যারা সন্তানকে সময় দেয়া থেকে বাঁচতে সন্তানের হাতে মোবাইলটা দিয়ে বসিয়ে দেয়। কিন্তু আপনি অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝতে পারবেন এটা আপনার একটি  মারাত্মক ভুল।এর ফলে মানসিক জটিলতা দেখা দেয়  অনেক সময় আপনার সন্তান অটিজম নামক মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সন্তানকে নিয়ে নানা সৃজনশীল কাজকর্ম ও  খেলাধুলায় সময় কাটান। বাস্তবে অন্য শিশুদের সাথে আপনার সন্তানকে খেলার সুযোগ করে দিন। বিজ্ঞানীরা বলেন সৃজনশীল খেলাধুলা এবং মানুষের সংস্পর্শ শিশুর বুদ্ধিমত্তার কল্পনাশক্তি ও  শব্দ ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে।

ছোট বলে তার কথা সবসময় অগ্রাহ্য করা, ছোট বাচ্চাদের আমরা প্রায়ই অগ্রাহ্য করে বলি তুমি এখনো ছোট এসব কিছু তুমি বুঝবে  না,  বড়দের কথা শুনতে হয় ইত্যাদি। কিন্তু আপনি কি জানেন প্রতিনিয়ত এ ধরনের কথা শুনতে থাকলে আপনার সন্তানের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হতে পারে।নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।এমন হতে পারে সে আর জীবনে কখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নাও রাখতে পারে।

নিজেই ভেবে দেখুন সারাক্ষণ কেউ যদি আপনাকে বলতে থাকে এটা করো না ওটা করো তাহলে আপনি কিভাবে বুঝবেন যে জীবন থেকে আপনি কি চান?  আপনার জীবনের লক্ষ্য কি ? আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে ঠিক তাই ঘটে।  তার মানে এই নয় যে সন্তানের সব কথাই আপনাকে শুনতে হবে। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো  তাকে বুঝিয়ে বলার।

টাকা পয়সার সম্পর্কে ধারণা না  দেয়া, অনেকে ভাবেন টাকা-পয়সা সম্পর্কে তার সন্তান যতদেরিতে সচেতন হবে ততো ভালো । কিন্তু ব্যাপারটা বরং উল্টো,দেখা গেছে এ ধরনের সন্তানদের অনেক বেশি বয়সেও অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কোন ধারণা গড়ে ওঠে না। এমন কী  নিজে উপার্জন করা শুরু করার পরেও না। কিশোর বয়স হলে আপনার সন্তানকে অল্প অল্প হাত খরচ  দিন যেটা দিয়ে সে কিছু কিনতে পারে আবার জমাতে পারে । তার জন্য কিছু কিনতে হলে দোকানে তাকে সাথে নিয়ে যান। তার জন্য একটি বাজেট দিয়ে দেন যাতে সে ঐটাকার মধ্যে কেনাকাটা শেষ করে। এর  মধ্য দিয়ে আপনার সন্তান শিখতে পাবে  কিভাবে বাজেট করতে হয় সঞ্চয় করতে হয় এবং আয় বুঝে ব্যয় করতে হয়।

অত্যন্ত আনন্দের স্মৃতি এবং নতুন  ভাবনা ও নতুন অভিজ্ঞতা সৃষ্টি  হয় আপনার সন্তানকে এমন স্থানে ঘুরতে নিয়ে যান। যা  আপনার সন্তানকে  ভবিষ্যতে সুযোগ্য  একজন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে ।এসব স্মৃতিচারণ নিয়ে আপনার সন্তান আত্মবিশ্বাসের সাথে গল্প করতে পারবে।

সন্তানকে জড়িয়ে না ধরা,অনেক মা-বাবা আছে সন্তানকে জড়িয়ে ধরতে চান না । এসব মা-বাবা মনে করে যে জড়িয়ে ধরে সন্তানকে বোধহয় তাদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে। আবার শিশুদের ক্ষেত্রে অনেকে মনে করেন বেশি বেশি কোলে নিলে এটা তার অভ্যাস হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সন্তানকে জড়িয়ে ধরলে শুধু যে তার প্রতি মা-বাবার মমতার প্রকাশ পায় তাই নয়, বিজ্ঞানীরা বলেন মা-বাবার সন্তানকে জড়িয়ে ধরলে  সন্তানের মধ্যে নিরাপত্তা বোধের জন্ম হয়। তাছাড়া শিশুরা যত বড় হয় তত কোলে উঠার আগ্রহ কমে যায় কাজেই যখনই সুযোগ পান আপনার সন্তানকে জড়িয়ে ধরুন। এতে  আপনি যেমন ভাল বোধ করবেন আপনার সন্তান হবে আত্মবিশ্বাসী এবং  সুখী।

মা-বাবার  কথার মিল না থাকা,সন্তানকে যখন একেকবার একেক নির্দেশনা দেয়ার ফলে কথার মিল থাকেনা ।যা  আপনার সন্তানকে বিভ্রান্ত করে।যেমন আপনি হয়তো সন্তানদের সকালে টিভি দেখা বারণ করে দিয়েছেন  কিন্তু কোনদিন আপনি নিজে ব্যস্ত থাকবেন বলে যদি তাকে সকালে টিভিতে বসিয়ে দেন তাহলে কি হবে আপনার সন্তানকে বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। যার ফলে কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক সন্তান এ নিয়ে বিভ্রান্তে ভোগবে । এভাবে চলতে থাকলে একসময় দেখবেন সন্তান আর আপনার কথা শুনছে না ।

আরো পড়ুন-

গুড প্যারেন্টিং এর জন্য করণীয়|

প্যারেন্টিং এর সেরা ৭ টি কৌশল

মোবাইল আসক্ত হচ্ছেন নিজের অজান্তে; মুক্তির উপায় এখানে


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *