শিশুর নিউমোনিয়া; প্রতিকার,প্রতিরোধ,করণীয় ও বর্জনীয়

Share This News

শিশুর নিউমোনিয়া ফুসফুসের প্রদাহ জনিত  একটি রোগ। সাধারণত  শিশুদের নিউমোনিয়া সমস্যা খুব প্রচলিত একটা সমস্যা। যদি সময়মতো নিউমোনিয়া চিকিৎসা না করা হয় এবং নিউমোনিয়া শনাক্ত না  করা হয় তাহলে অনেক সময় শিশুর মৃত্যুও হতে পারে।

 শিশুর নিউমোনিয়া কেন হয়-

  • শীত মৌসুমে শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় বেশি।
  • এছাড়া নিউমোনিয়ার জীবাণু মানুষের ফুসফুস এবং শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এবং টিবি’র জীবাণুর মাধ্যমে নিউমোনিয়া ছড়ায়।
  • স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে শিশু থাকলে শিশুর নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • পর্যাপ্ত আলো বাতাস ঘরে না থাকলে শিশুর নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়ারঝুকি বেড়ে যায়।

নিউমোনিয়া সনাক্ত করার উপায়, আমরা সাধারণত অনেকেই জানিনা কোনটা নিউমোনিয়ার কোনটা সাধারণ সর্দি কাশি। যার ফলে অনেক সময়  শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এর ফলে শিশুর নিউমোনিয়া জটিল পর্যায় চলে যায়।

এবার আমরা আসি কিভাবে শনাক্ত করা যায় শিশুর নিউমোনিয়া-

১। যদি শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত শ্বাস নেয়, স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত শ্বাস নেওয়া নিম্নরূপ-

বয়স                    প্রতি মিনিটে

০- ২ মাস               ৬০ বা তারও বেশি

২-১২ মাস              ৫০ বা তারও বেশি

১-৫ মাস                ৪০ বা তারও বেশি

২।শ্বাস নেওয়ার সময় শিশুর বুকের নিচের অংশ ভিতরের দিকে ডেবে যাওয়া।

৩।  শিশুর খিঁচুনি হওয়া এবং অতিমাত্রায় জ্বর হওয়া।

৪। বুকের দুধ পান করতে  না পারা বা পানি পানের সমস্যা হওয়া।

৫। শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়ে আসা।

উপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে শিশুকে অবশ্যই একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে প্রয়োজন অনুসারে হাসপাতালে ভর্তি পরামর্শ দিতে পারে ডাক্তার।

শিশুর নিউমোনিয়া হলে কি করবেন-

  • যেহেতু নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সর্দি এবং কাশি থাকে  সেহেতু শিশুর নাক পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে শিশুর মায়ের বুকের দুধ খেতে সমস্যা না হয়। কোনভাবেই মায়ের বুকের দুধ খাওয়া বন্ধ করা যাবে না।মায়ের বুকের দুধ শিশুর নিউমোনিয়া সংক্রমন প্রতিকার করে।
  • যেসব শিশু ( ২ বছরের উর্ধ্বে শিশু ) মায়ের বুকের দুধ খায় না তাদের সুষম খাবার ও তরল খাবার বেশি করে দিতে হবে।
  • নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুকে (৬ মাসের উর্ধ্বে) শিশুকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমান পানীয় খাওয়াতে হবে। যে সকল পানীয় খাওয়াতে পারেন-লেবুর শরবত, অল্প গরম পানি, হালকা লিকার চা, মধু খাওয়ানো যেতে পারে। এতে শিশুর কাশি উপশম হবে।
  • শিশুকে গরম পানি অথবা দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে শিশুকে খাওয়াতে পারেন এতে কাঁচা হলুদ সংক্রমন প্রতিকারে সাহায্য করবে।তবে এক্ষেত্রে শিশুর বয়স লক্ষ্য রাখতে হবে, ২ বছরের উর্ধ্বে বয়সে শিশুকে দেওয়া যেতে পারে।
  • নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে শিশু খেতে চায় না এক্ষেত্রে শিশুকে  খাবার অল্প অল্প করে বারেবারে খাবার দিতে হবে।
  • শিশুর জ্বর থাকলে জলপট্টি দিতে হবে, শিশুর দেহ তাপমাত্রা কমে গেলে তা ভুলেও করা যাবে না। জ্বর কমানের জন্য সাধারণ প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে।তবে শিশুর দীর্ঘ মেয়াদী কোন রোগ থাকলে তা দেওয়া যাবে না। ডাক্তারে পরামর্শ অতি দ্রুত নিতে হবে।
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিতে হবে।

শিশুর নিউমোনিয়া হলে যা করা যাবে না-

  • শিশুকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষুধ খাওয়াবেন না।
  • দরজা জানালা বন্ধ রাখবেন  না ।
  • ঠান্ডা কোন খাবার দিবেন না।
  • ঠান্ডা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে রাখবেন না ।

আরো পড়ুন-

ক্যান্সার কেন হয়?

কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে মেনে চলুন কিছু পরামর্শ

মুখের ঘায়ের ঘরোয়া প্রতিকার

ঘরোয়া পদ্ধতিতে দাঁতের হলদে ভাব দূর করার উপায়


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *