শবে বরাত নিয়ে বেদাবেদ নয় ; শাইখ আহমাদুল্লাহ

Share This News

আজ অনেক উলামায়ে মাশায়াখের মতে শবে বরাত।কারো মতে এটি জায়েজ আবার কারো বা মতে এটি নাজায়েজ।ভিন্ন ভিন্ন উলামায়ে কেরাম এই ব্যাপারে ভিন্ন মতামত পোষন করে আসছে। কোন আলেম তো এই দিনের বিশেষ আমল ও বিশেষ আমলের পদ্ধতি সম্পর্কে জানান দিচ্ছে।তবে এই দিনটির ব্যাপারে শাইখ আহমাদুল্লাহ তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অসুরনীয় ইসলামি ব্যাক্তিত্ব।

উনি উনার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে একটা বার্তা দেয় , যা থেকে শবে বরাতের ব্যাপারে যা থেকে অনেক ধারণাই পরিষ্কার হয়ে যায়।

আমরা শায়ে্ষ আহমাদুল্লাহ সাহেবের বার্তা টি নিচে হুবহু তুলে ধরেছে,

সন্দেহ নেই, মধ্য শাবানে রাত জেগে ইবাদতের হাদীস নিয়ে আপত্তি আছে। দিনে রোযা রাখাও বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। এই রাতে ভাগ্য নির্ধারণের বর্ণনাও বিশুদ্ধ নয়। কবর যিয়ারতে হাদীসটি আরো বেশি অগ্রহণযোগ্য। তবে এই রাতে মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে সাধারণ ক্ষমা সম্পর্কিত একটি হাসান তথা গ্রহণযোগ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সেজন্য ইবনে তাইমিয়া (রহ:)সহ অনেক স্কলারগন মধ্য শা’বানের ফজীলতকে স্বীকার করেছেন।

কিন্তু এর ওপর ভিত্তি করে একদিকে দেশব্যপি যা হয় তা যেমন বাড়াবাড়ি-অপর দিকে ‘শবে বরাতের একটি রোযা জাহান্নামে যাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ’, কোনো মুসলিম শবে বরাত পালন করতে পারে না’ ইত্যাদি মন্তব্যও সুস্পষ্ট সীমালঙ্ঘন।

আজকাল দ্বিনী বিষয়ে মন্তব্যে সাধারণ মানুষ প্রচুর পরিমাণ সীমালঙ্ঘন করে চলেছেন। এর দু’টি কারণ দেখি আমি।

এক.উলামায়ে কেরাম ও দাঈগন, দায়িত্বশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ মন্তব্য থেকে এক ইঞ্চি বিচ্যুত হলে, সাধারণ মানুষ ও উৎসাহী অনুসারীদের মন্তব্যে এক হাত বিচ্যুতি ঘটবে-এটাই স্বাভাবিক। আর হচ্ছেও তাই।

দুই. কোন্ বিষয়ে কোন্ মাত্রায় মন্তব্য করতে হবে তার জন্য প্রয়োজন শাস্ত্রীয় জ্ঞান। শাস্ত্রীয় জ্ঞান ছাড়াই এখন আশংকা জনক হারে মন্তব্য ও ফতোয়ার প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এজন্য সীমালঙ্ঘনও হচ্ছে প্রচুর পরিমানে। যার পরিণাম ব্যক্তি ও সমাজ-উভয়ের জন্য ভয়াবহ।

যে কোনো আমলের পেছনে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ভিত্তি থাকে, হোক সেটা দূর্বল বা কারো মতে অগ্রহণযোগ্য-তবু তার ওপর আমলকারী ব্যক্তিকে জাহান্নামে পাঠানো কিংবা সরাসরি বিদআতী বলার কোনো সুযোগ নেই। পূর্বসুরী কোনো মনিষীর এরকম কোনো মানহাজ বা কর্মপন্থা আমার জানা নেই।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, চোখে খড়কুটো পড়লে যেমন আলতোভাবে যত্নসহকারে তা পরিস্কার করতে হয়, সমাজে প্রতিষ্ঠিত কোনো ভ্রান্তি ও বাড়াবাড়ি সংশোধনেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। এ ধরণের পরিস্থিতিতে শুধু ফতোয়া ও তীর্যক মন্তব্যে, নিজস্ব বলয়ের বাহবা অর্জন হয়, সমাজ সংস্কার হয় না।

উপরে আমরা শাইখ আহমাদুল্লাহ হযরতের বক্তব্য থেকে এটাই স্পষ্ট জানতে পারি যে , শবে বরাতে ঐ রকম বিশেষ কোনো আমলের কথা উল্লেখ্য না থাকলে কেউ করতে চাইলে তাই নিয়ে বেদাবেদ সৃষ্টি করা যাবে না। হযরত আরো একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন যে আলেমদের বক্তব্যর মাঝে অসামঞ্জসতা থাকার কারনে সাধারণ মানুষ এই থেকে বিভ্রান্তিতে পড়ছে। যার ফলে অনেক সাধারণ মানুষ ফতোয়া শাস্ত্রে কিছু না জেনেও অন্য আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ্য করে বিভিন্ন ফতোয়ার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করছে।

শাইখ আহমাদুল্লাহ সাহেবের নিয়মিত বার্তা পেতে ভিজিট করুন-

শাইখ আহমাদুল্লাহ হযরতের ফেসবুক পেজে- আহমাদুল্লাহ


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *