শরীরের সুস্থতার জন্য চাই রমজানে ডায়েট

Share This News

পরিমিত খাবার এবং স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চয়তার জন্য অনেকে ডায়েট করে থাকে। রমজানে আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হয় সে সাথে আমাদের ডায়েটে হয়ে যায় অনিয়মিত। তবে  তবে রমজান মাসে ডায়েট  পরিকল্পনা মোতাবেক চললে আপনার সুস্বাস্থ্য হবে নিশ্চিত। রমজান মাসে ডায়েট পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত স্থূলতা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। রমজানে আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণেই আমরা অনেক ধরনের খাবার খাই যা কিনা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যা আমাদের সঠিক ডায়েট এর ব্যাঘাত ঘটাইয়। রমজান না খেয়ে থাকার কারণে রাতে অনেকে পেট পুড়ে খায় যা  মোটেও ঠিক না। রমজানে আমাদের খাদ্য তালিকা বেশিরভাগই থাকে তেল চর্বি জাতীয় খাবার খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যাদের অতিরিক্ত স্থূলতা এবং ডায়াবেটিস জনিত সমস্যা রয়েছে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই ধরণের খাবার । আর আমরা যদি রমজান আমাদের খাদ্যভাসকে  গতানুগতিক নিয়ম বাইরে নিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাই তাহলে আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে।

রমজানে শরীরচর্চার কথা ভুলে গেলে চলবে না-

রোজা শরীর ক্লান্ত হয়ে যায় যার ফলে অনেকে শরীরচর্চার কথা ভুলে যায় বা অনেকের ধারণা যে রমজানের শরীরচর্চা করতে হবেনা শরীরচর্চা না করলেও চলে। এমন মনোভাব পরিহার করতে হবে ভালো স্বাস্থ্যের জন্য। রমজান শরীর ওজনকে  কমাতে চাইলে ইফতার আধাঘন্টা আগে হালকা ধরণের হোম ওয়ার্কআউট গুলো করা যেতে  পারে । এতে শরীরে অতিরিক্ত ওজোন বার্ণ হবে যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

প্রচুর পরিমাণে পানি

আমাদের দেহে ৭০ ভাগ পানি তাই আমাদের খাদ্য তালিকার মধ্যে পানি সর্বাধিক রাখা হচ্ছে সর্বোত্তম। কিন্তু আমরা অনেকটাই ভোজনপ্রিয় যার কারণে আমরা পানি পাঙ্কে অগ্রাহ্য করি ।যার ফলে আমরা কিডনি এবং লিভারজনিত এবং অন্যান্য সমস্যায় ভুগে থাকি। তাই ইফতারের পর থেকে  সাহরি পর্যন্ত  প্রচুর পানি পান করা উত্তম। তবে চিনিজাতীয়  পানীয় থেকে বিরত থাকতে হবে যাদের দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস রোগে ভুগছে তাদের জন্য। পর্যাপ্ত পানি পানে আমাদের এই গরমে পানির ঘাটতি দেখা দেয় না ।তাই পানিশূন্যতা থেকে বাঁচতে আমাদের ইফতারের পর থেকে সাহরি পর্যন্ত প্রচুর পানি পান করতে হবে।

হালকা ইফতার-

সারা দিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে চলে অতিভোজন। আর এই অতিভোজনে আমাদের পেটের ঠিক হয়ে যায় মাথা খারাপ।কিন্তু মনে রাখতে হবে সারাদিন না খাওয়াতে ইফতার আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।তবে খেয়াল রাখতে হবে ইফতারে আমরা কি খাচ্ছি?

ইফতার ঠান্ডা অথবা লেবুর শরবত দিয়ে  শুরু করা যায়। ইফতারে রাখা যায় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খেজুর। তবে এক্ষেত্রে পরিহার করতে হবে যেকোনো ধরনের ভাজা পোড়া অথবা বাহিরের খাবার ।পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারে থাকতে হবে আমাদের ইফতারের খাবারের তালিকায় এক্ষেত্রে রাখা যায় সালাদ, টক দই, মৌসুমী ফলমূল । রাখা যেতে পারে দই চিড়া অথবা বাজারে পাওয়া যায় ওটস।  ভাজা পোড়া পরিহার করতে হবে।বেশি ভাজাপোড়া খেলে বদহজম, বমি, গ্যাস হতে পারে।

সাহারিতে পরিমিত খাবার

রমজানে সাহরি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেননা সাহরি খেয়েআমরা রোজা শুরু করি তবে এ ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকেই পেটপুরে সেহরি খেয়ে নিই যাতে করে পরেরদিন তেমন একটা খিদে না লাগে তবে এটা ভুল ধারণা এবং ভুল পদ্ধতি, সাহরিতে আপনি কতটা খেয়েছেন সেটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না।সাহরিতে আপনি কত পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেয়েছেন এটাই মূখ্য।তাই সাহরিতে অতিভোজন না করে পরিমিত খাবার খান। সাহরিতে অতিরিক্ত আমিষ পরিহার করুন।সাহরিতে যা খেতে পারেন, সারা দিন নিজেকে তৃষ্ণা ও ক্ষুধা থেকে বিরত রাখতে চাইলে সাহরিতে পরিমিত পরিমাণে প্রোটিন, আয়োডিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ফল, সবজি সেদ্ধ, সবজি সালাদ, দুধ বা টক দই, ভাত বা রুটি, মাছ বা মুরগির মাংস অথবা ডিম ও ডাল খেতে হবে।

রমজানে জীবন অভ্যাসের পরিবর্তন –

অনেক মধ্যে  দেখা যায় রমজান তাদের অভ্যাস এর পরিবর্তে রাত জাগনা থেকে দিনে বেলায় ঘুমানো যা মোটেও ঠিক না। মোটামুটি পর্যাপ্ত ঘুমের পর দিনের বেলা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে হবে।রমজানে দিনের বেলা স্বাভাবিক কাজ কর্ম করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

রোজায় খাদ্যভ্যাস; কী খাবেন আর কী খাবেন না

রোজা নিঃসন্দেহে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু সারাদিন রোজা থাকার পরে  যখন ইফতারের সময় হয় তখন আমরা নেমে পড়ি খাবারের প্রতিযোগিতা। আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রধান থাকে ভাজাপোড়া যা যা আমাদের পাকস্থলীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই ধরনের খাবার  খাওয়ার ফলে দেখা দিতে পারে আমাদের শরীরে অতিরিক্ত এসিডিটির সমস্যা ,মাথাব্যথা, দুর্বলতা, অবসাদ এমনকি হজমের সমস্যা। রোজা রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা এবং ওজন কমার কথা কিন্তু অনেকেই রোজা থাকার পরও ওজন নিয়ন্ত্রনে না থেকে ওজন বেড়ে যায়।এর কারণ হচ্ছে রোজা রাখার পরে ইফতারের সময় এবং পরবর্তী সময়ে অনেক পরিমান তেল চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ।

রমজানে আমাদেরকে এমন খাবার পছন্দ করতে হবে যা আমাদের শরীরের জন্য সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর খাবার। আমাদের খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে বাইরের খাবার ও  ভাজাপোড়া খাবার,   যেমন পেঁয়াজি, বেগুনি, কাবাব, হালিম, মাংস-জাতীয় খাবার।এসকল খাবার আমাদের হজমের সমস্যা সৃষ্টি করে এবং ইফতারের পরে আমাদের পাকস্থলীর এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।দিনের বেলা কিন্তু আমরা না খেয়ে থাকি ইফতারে  আমাদের দেহে মস্তিষ্ক  ও স্নায়ুকোষ গুল সাথে সাথে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগান পায়। তাই ইফতার হওয়া চাই সহজপাচ্য, পুষ্টিকর এবং  স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। খাবারটি বেশি দামি হতে হবে এমনটা না তবে খাবার হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত।

যেহেতু এখন গরমকাল রোজা রাখলে আমাদের পানির পিপাসা দেখা যায় তাই আমরা প্রথমে পানি অথবা বিভিন্ন ফলের রস খেতে পারি তবে এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে কোন ফলের রসে যাতে কৃত্রিম রং অথবা বাজারের বরফ ব্যবহার না করা হয়।.

ইফতারে দই চিড়া অথবা খেজুর খেজুড় খেতে পারেন । ইফতার হতে হবে অল্প পরিমান কিন্তু স্বাস্থ্যকর। ইফতারের পরে রাতের খাবারে হালকা ও সহজে হজম হয় এমন খাওয়া উচিত তবে রাতের খাবার তারাবির আগে খেয়ে ফেললে সবচেয়ে ভালো হয় যেহেতু রাতের খাবার পরে আমরা হাটা চলা করতে তেমন অভ্যস্থ না।রাতের খাবার তারাবির আগে খেয়ে ফেললে আমাদের মোটামুটি খাবারটা হজম প্রক্রিয়া ভালো হয়।রাতের খাবারে আমরা সবজি এবং সেই সাথে মাছ অথবা অল্প পরিমাণে মুরগি অথবা গরুর গোস্ত রাখা যেতে পারে।

সাহরীর খাবারে খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া যাবেনা যে  দিনের বেলা উপোস থাকবো তাই বেশি করে খেয়েনি এমন মনোভাব পরিহার করতে হবে। তবে ইফতারের পর থেকে সাহরি পর্যন্ত অল্প অল্প পরিমাণ পানি পান করতে হবে যে পরিমাণ পানি দিনের বেলা স্বাভাবিকভাবে আমরা পান করতাম। সাহরিতে শাক-সবজি এবং আমিষ জাতীয় খাবার অল্প পরিমাণ রাখা যেতে পারে তবে এক্ষেত্রে বাঙালির সাহরি খাবারের তালিকা রয়েছে দুধ-ভাত, দুধভাত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এই খাবার সাহরিতে খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। 

রোজায় ইফতারে কি ধরনের খাবার খাবেন-

ইফতারে থাকা চাই বিশুদ্ধ পানি।

খেজুড় স্বাস্থ্যকর খাবার ইফতারিতে খেজুড় রাখুন।

বিভিন্ন ধরণের ফলের রস খেতে পারেন, তরমুজের শরবত,বেলের শরবত যে সকল ফলের ঋতু এখন ধরনের ফল খেতে পারেন।

আখের রস খেতে পারেন তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে আখের রসে যাতে বরফ মিশ্রিত না থাকে।

ইফতারে দুধ খাওয়া যেতে পারে

বাজার পাওয়া যায় ওটস  যা বিভিন্ন খাদ্য শশ্য থেকে তৈরি ইফতারে ভাজাপোড়া এর পরিবর্তে ওটস রাখুন।

যে কোন মৌসুমী ফল ইফতারে খেতে পারেন

ইফতারে ডিম এবং বাদাম খেতে পারেন

ইফতারে দই চিড়া খেতে পারেন, দই চিড়া সহজপাচ্য খাবার।

ইফতারে বাসাইয় তৈরি ফালুদা খেতে পারেন

ফল দিয়ে তৈরি সালাদ খেতে পারেন

এছাড়া রমজানে খাদ্য তালিকায় থাকা চাই আঁশযুক্ত খাবার।আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে লাল আটা, বাদাম, বিনস, শস্য, ছোলা, ডাল ইত্যাদি খেতে হবে।এগুলো হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখে।এছাড়া রক্তে চিনির পরিমাণ এই খাবার গুলো বাড়ায় না।রমজানে ইফতারের সময় থেকে সাহরি পর্যন্ত ৬-৮ গ্লাস পানি পান করুন।পানি না পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যে খাবারে খান না কেন খাবার যেন হয় স্বাস্থ্যকর এবং তা যেন হয় সহজপাচ্য যাতে করে আপনার শরীরের কোন সমস্যা না দেখা দেয়। তবে গতানুগতিক আমাদের ইফতারের যে ঐতিহ্যবাহী গত চল রয়েছে এই ধরণের খাবার আমাদের দেহের জন্য উপকারী নয়। ইফতারের সুষম খাবার রাখবো এবং ইফতার থেকে শুরু করে সাহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি পান করবও। চেষ্টা করব রাতের খাবার তারাবির আগে খেয়ে ফেলার জন্য।

রোজায় কোন ধরনের খাবার পরিহার করবেন-

তেল চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।তেল চর্বি জাতীয় খাবার গুলো আমাদের পরিপাকের সমস্যা সৃষ্টি করে এর ফলে আমাদের পেটের পীড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিনি যুক্ত খাবার কমিয়ে খেতে হবে।কারণ চিনিযুক্ত খাবার আপনার রকেতের গ্লুকোজ মাত্রাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

রোজায় চা কফি বাদ দিলেই ভালো। 

সাহরিতে বেশি পরিমাণ খাবার না খেয়ে পরিমিত খাবার খান।

রোজা রেখে কোমল পানিও খাওয়া যাবে না মোট…

ইফতারের পর ভুরি ভোজ না করে পরিমিত খান,ভুরিভোজ করলে রোজা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী না হয়ে বরং ক্ষতিকর হবে।

রোজাতে আমিষ জাতীয় খাবারের মধ্যে গরুর গোস্ত ও মুরগি না রেখে মাছ রাখুন।কারন মাছ সহজপাচ্য খাবার

বিশেষ বার্তা

রোজা রাখলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে, তাই রোজা রাখার জন্য কোন ধরনের অযুহাত না দিয়ে রোজা রাখুন।যাদের দীর্ঘমেয়াদী রোগ যেমন ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, কিডনি ইত্যাদি রোগীরাও  রোজা রাখতে পারেন এতে কোন ক্ষতি নেই।তবে রমজানের পূর্বে আপনার ডাক্তার সাথে কথা বলে ঔষুধের ডোজ পরিবর্তন করে নেন।


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *