মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

Share This News

আগামীকাল শুক্রবার ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মেডিকেল  এমবিবিএস কোর্স ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ।  বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী এমতাবস্থায় ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। বর্তমানে সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর এই পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। সরকার ইতিমধ্যে ১৮ দফা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে করোনা নিয়ন্ত্রণে।আর এই  করোনার মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মানতে হবে বাড়তি কিছু নির্দেশনা।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর  এক বিজ্ঞপ্তিতে জরুরী কিছু নির্দেশনা জারি করেছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য-

বিজ্ঞপ্তি তে  বলা হয় প্রত্যেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষার কেন্দ্রে দুই ঘন্টা আগে উপস্থিত থাকতে হবে। সকাল সাড়ে ৯ টার মধ্যেই পরীক্ষার কেন্দ্রের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হবে। নয়টার পর কোন শিক্ষার্থী পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।

স্বাস্থ্য  শিক্ষাঅধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়, আগামী ২ এপ্রিল যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সকাল ৮টার মধ্যে তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। ৯টা ৩০ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রধান ফটক বন্ধ হয়ে যাবে। সাড়ে ৯টার পর কোনো শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

তবে অনেক শিক্ষার্থী মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে এখনো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। তবে এই রিট খারিজ করে দেওয়া হয়েছে ২৪ শে মার্চ তারিখে।

 যার ফলে আগামীকাল মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে কোন বাধা থাকছে না।

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে যদি কোনো শিক্ষার্থী করোনা  আক্রান্ত হয় তাহলে তাদের জন্য আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত প্রতিটি কেন্দ্রে  একটি পৃথক রুম প্রস্তুত করা হবে যাতে করে যে সকল শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত অবস্থায় পরীক্ষা দিতে আসবে যাতে তারা ঐ নির্ধারিত রুমে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে কর্তৃপক্ষ। এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান পরীক্ষা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক  ডাক্তার আহসান হাবীব। 

তিনি আরো বলেন আগামী ২ এপ্রিল মেডিকেল এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পরীক্ষার কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা হিসেবে  প্রত্যেকটি পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র । এছাড়া পরীক্ষার প্রতিটি কেন্দ্র আলাদা একটি রুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে করে কোনো শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকলে আলাদা রুমে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেন।

ডাক্তার আহসান হাবীব বলেন করোনা  কারণে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীর অভিভাবক দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন

পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোন কারণ নেই। আমরা পরীক্ষা কেন্দ্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অবলম্বন করে  এবং আমরা যথাযথ ভাবে এবং সুষ্ঠুভাবে আমাদের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারব।

২০২০-২১ শিক্ষা বর্ষে এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় আসন বিন্যাস সাজানোর কথা চিন্তা ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে। যেহেতু এপ্রিলে দেশ থেকে করোনা পুরোপুরি নির্মূল হচ্ছে না— সেটি মাথায় রেখেই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার আসন বিন্যাস করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ন্যুর সংখ্যা দেড় থেকে দুই গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মেডিকেল ভর্তি কমিটি। প্রয়োজনে ‘জেড’ আকৃতির সিট প্ল্যান করতে পারে মেডিকেল ভর্তি কমিটি।
ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য

আরো পড়ুনঃ

রাবির প্রাথমিক ভর্তি আবেদন শুরু ৭ই মার্চ

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা যাচ্ছে তিনটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষা) ডা. এ কে এম আহসান হাবীব জানায়,
আমরা ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোর জন্য একটা নির্দেশিকা তৈরি করব। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পড়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, থার্মাল স্ক্যানার রাখাসহ আরও বেশকিছু বিষয় মানার নির্দেশনা থাকবে।কেন্দ্রের পরচালক এই ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।

তিনি আরো বলেন,করোনাার মধ্যে পরীক্ষা হওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা নেয়া হবে। এজন্য পরীক্ষার ভেন্যুর সংখ্যা গতবারের চেয়ে দেড় থেকে দুই গুণ বাড়ানো হবে।
এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে গত ৮ ই ফেব্রুয়ারি।

উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ২০১৯ বা ২০২০ সালে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তি আবেদন করতে পারবেন। তবে ২০১৭ সালের আগে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীরা আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়েছে,দেশ কিংবা বিদেশে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা এসএসসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৯ হতে হবে।ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও পার্বত্য জেলার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট জিপিএ কমপক্ষে ৮ হতে হবে। জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম গ্রেড পয়েন্ট ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায়।

পরীক্ষার মানবন্টন-


সময়কাল এক ঘণ্টা।
একশটি এমসিকিউ প্রশ্নের (প্রতিটির মান ১)।
জীববিজ্ঞানে ৩০,
রসায়নবিদ্যায় ২৫,
পদার্থবিদ্যায় ২০,
ইংরেজিতে ১৫
সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ১০ নম্বর থাকবে।

ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়াঃ


১১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে আবেদন শুরু হয়ে চলবে ১ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। টেলিটক প্রিপেইড সিমের মাধ্যমে এক হাজার টাকা জমা দিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবে।


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *