গুড প্যারেন্টিং এর জন্য করণীয়|

Share This News

একটি শিশু ছোট থেকে বেড়ে উঠে পরিবারের ছায়া।

আর এই পরিবারের শিশুদের অতি আপনজন হচ্ছে মা-বাবা।

প্রত্যেক মা-বাবা চেষ্টা করে তার সন্তানকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে ও ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে।প্রত্যেক মা-বাবা চেষ্টা করে  তার সন্তানকে সঠিক পরিচর্যা দিয়ে বড় করতে।

আর এই পরিচর্যাকেই বলা হয়ে থাকে প্যারেন্টিং। প্যারেন্টিং বিষয়টা বাংলাদেশে তেমন একটা পরিচিত না হলে বিশ্বের অনেক দেশেই প্যারেন্টিং কে গুরুত্বের চোখে দেখা হয়।

কিভাবে আপনি  আপনার সন্তানের সঠিক পরিচর্যা করবেন সেই বিষয়টা এখন অনেকের ভাববার বিষয়।

আপনি আপনার সন্তানকে যেভাবে লালন পালন করেন না কেন সেটাই প্যারেন্টিং কিন্তু সেটা কী গুড প্যারেন্টিং  চিন্তা করে দেখেছেন?

আসুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে আপনি আপনার সন্তানকে গুড প্যারেন্টিং এর মাধ্যমে বড় করে তুলবেন এবং বিশেষজ্ঞদের মতে চিহ্নিত গুড প্যারেন্টিং এর কয়েকটি নিয়ম –

Good Parenting

১। শিশুদের আচরণ সম্পর্কে অবগত থাকা

শিশুরা শিশু সুলভ আচরণ করবে এটাই স্বাভাবিক আর এই শিশু সুলভ আচরণ ধীরে ধীরে পরিবর্তন হবে অন্যকে অনুকরণের মাধ্যমে।তাই শিশুর মেধা বিকাশ হয় এমন কাজ শিশুদের সাথে করুন।শিশুদের শিশু সুলভ আচরণ দেখে ধৈর্য্য হারানো যাবে না অথবা বকা ঝকা করা যাবে না।আপনি বকা দেওয়া মানে হলো আপনার শিশুর মেধাবিকাশে ব্যাঘাত ঘটানো।

২। শিশুদের মানসিকতা বুঝার চেষ্টা করুন-

শিশুরা সবসময় প্রশ্ন করতে ভালোবাসে।কারণ শিশু অবস্থা তার কাছে সব কিছুই নতুন।তাই সে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র বিষয় গুলো জানতে আগ্রাহী হবে।আর এই জানার সঙ্গী আপনাকেই হতে হবে ,শিশুর প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর স্বাভাবিক ভাষা দেওয়ার চেষ্টা করুন।আপনার শিশু কোন বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে তাকে পুণরায় ভিন্ন পন্থায় বুঝানোর চেষ্টা করুন।বিরক্ত হবেন না কোন বিষয় না জানলে তাকে আপনার না জানার বিষয়টি বলুন।এবং পরে জেনে বলবেন তাও বলুন।

Child Mentality

৪।আপনার শিশুর খাবারের প্রতি যত্নবান হোনঃ

পেট ভর্তি খাবার খাওয়ানো মানে এই না যে আপনার সন্তানের পুষ্টি উপাদান সঠিক ভাবে পাচ্ছে।আপনার সন্তানকে যতটা সম্ভব অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে দূরে রাখুন। পুষ্টিকর খাবার দেওয়া।সুষম খাদ্য খাওয়াতে হবে।আপনার সন্তানকে ঝোরপূর্বক কোন খাবার খাওয়াবেন না।বরং তার খাবার ধরন পরিবর্তন করে খাবার খাওয়াবেন।

৫। শিশুদের নৈতিকতা শিক্ষা প্রদানঃ

আপনার শিশুকে নৈতিকতা শিক্ষা দিন।ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান।ও ধর্মের রীতিনিতি সম্পর্কে অবগত করুন।একটি শিশুর জন্য ধর্মীয় শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ন ।

৬।আপনার শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দিন তাকে বুঝার চেষ্টা করুন-

বর্তমানে অনেক পরিবার আছে মা-বাবা দুইজনে চাকুরিজীবি।এমতাবস্থায় সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না যা মেধা বিকাশের এক বিরাট বাধা।প্রয়োজনে দুইজনের কাজের শিফট আলাদা আলাদা করুন।বাসায় যেটুকু সময় থাকুন সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিন।যতটা সম্ভব মোবাইল কম ব্যবহার করুন সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিন।

৭।শিশুর মাঝে ইতিবাচক ধারনা গড়ে তুলুন-

ছোট থেকে শিশুরা ইতিবাচক ধারণা নিয়ে বড় হয়।যা লক্ষ্য করলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার সন্তানের হাটার সময় বার  বার পড়ে যাওয়ার পরেও তার মনোবল অটুট থাকে এবং সে একসময় হাটা শিখে যায়। শিশুর বেড়ে উঠার সাথে সাথে আমাদের দেখা দেখা ইতিবাচক ধারনা বদলে ফেলে।তাই আপনার শিশুকে অনুপ্রাণিত করুন।

৮।তাকে খেলার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিন

পড়ালেখার প্রতিযোগিতায় আমরা আমাদের শিশুকে পর্যাপ্ত খেলার সময় দিই না এতে করে সন্তানের মেধা বিকাশের ব্যাঘাত ঘটে  এবং পড়ার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়।

৯।শিশুকে নিয়ে অবসরে ঘুরতে বের হোন-

আপনার ব্যস্থতার মাঝে যখনই অবসর পাবেন আপনার সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বের হোন।দূরে কোথায় যেতে হবে এমনটা না।আশে পাশে হাটার জায়গা আছে সুন্দর পরিবেশ আছে এমন জায়গা হলেই হবে।

১০।আপনার শিশুর মাঝে  বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন-

টেলিভিশন দেখার চেয়ে বই পরা অতি উত্তম এতে চোখের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। টেলিভিশন এর শব্দ শুনতে শুনতে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।তাই বাসা টেলিভিশন কিনার আগে শিশু উপযোগী একটি লাইব্রেরি তৈরি করুন।

১১। শিশুর প্রতি কঠোর না হয়ে শিশুর সহযোগী হোন-

আপনার শিশু কোন কাজ করতে অসুবিধা হলে পড়া পড়তে কোথায় অসুবিধা হলে তাকে বুঝিয়ে দিন।তার কাজে সহযোগীতা করুন তাকে কাজ  শিখিয়ে দিন।কাজ করতে অনাগ্রহী হলে তাকে কাজের অপশন দিন।

১২। শিশুকে অনুপ্রানিত করুন-

আপনার শিশুর কাজে তাকে অনুপ্রানিত করুন।ভালো কাজে পুরুষ্কৃত করুন। হেরে যাওয়ার মাঝে লুকায়িত আছে আনন্দ এটা অবগত করুন।বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করতে শিখান।

১৩। শিশুর কাছে আপনি আপনি হয়ে উঠুন একজন সেরা মানুষ-

আমাদের সবার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পছন্দের মানুষের কথা শোনা। পছন্দের মানুষ যা বলে তাই করতে ভালো লাগে।শিশুরাও তদ্রুপ যখন আপনি আপনার শিশুর কাছে হয়ে উঠবেন সেরা মানুষ হিসেবে ,তখনই সে আপনাকে আদর্শ হিসেবে মেনে নিবে।


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *