নটরডেম কলেজ ভর্তি প্রস্তুতি

Share This News

নটরডেম কলেজ ভর্তি প্রস্তুতি-

বাংলাদেশের সেরা কলেজ গুলোর মধ্যে অন্যতম নটরডেম কলেজ।প্রতিবছর অন্যান্য কলেজগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এই কলেজটির ভর্তি প্রক্রিয়া ব্যতিক্রম হয়ে থাকে।  নটরডেম কলেজে ভর্তি হতে হলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ভাইভা পরীক্ষা দিয়ে একজন নটরডেমিয়ান হিসেবে নিজেকে জায়গা করে নিতে হয় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে। এই কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অনেকের জানার আগ্রহ থাকলেও ভালো তথ্য না পাওয়ার কারণে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আবার অনেকে দ্বারস্থ হয় ভর্তি কোচিং সেন্টারে কিছু তথ্য-জানা থাকলে ভর্তি কোচিং ছাড়াও এ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব এ জন্য জানতে হবে ভর্তি পরীক্ষার কারিকুলাম এবং ভর্তি পরীক্ষায় নেওয়া বিষয়গুলো সম্পর্কে।

নিচের দেওয়া তথ্যগুলো আপনি নটরডেমের ভর্তি প্রস্তুতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেয়ে যাবেন-

ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হলে আপনার এসএসসি পরীক্ষায় যেমন ফলাফল প্রয়োজন হবে –

বিজ্ঞান বিভাগে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন (উচ্চতর গণিতসহ) GPA 5.00, 

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে GPA 4.00 

এবং মানবিক বিভাগে GPA 3.00।

আপনি যদি এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ উপরে দেওয়ার যোগ্যতা সামঞ্জস্য থাকে তাহলে আপনি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

যে যে বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হতে পারে-

 নটরডেম কলেজে প্রতিবছর এই প্রশ্নের ধরন এবং প্রশ্নের মানবন্টন পরিবর্তন হয়ে থাকে তাই নির্দিষ্ট করে বলা অসম্ভব যে কোন কোন বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে তবে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ধারণা থেকে বলা যায়।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাংলা , ইংরেজি , উচ্চতর গণিত , পদার্থবিজ্ঞান , রসায়নবিজ্ঞান , জীববিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন হয় ।

আর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষার বিষয় বাংলা , ইংরেজি , সাধারণ গণিত , বিজ্ঞান , আইসিটি , সাধারণ জ্ঞান ।

কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতি বছরের প্রশ্নের ধরন ও বিষয় পরিবর্তন করে তাই সব বিষয়েই প্রস্তুতি থাকা ভালো। তবে ইসলাম শিক্ষা ও বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয় এই দুই বিষয়ে থেকে বিগত বছরের প্রশ্ন করা হয়নি তাই বলা যায় যে এই বিষয়ে বাদে বাকি বিষয়গুলোর প্রস্তুতি ভালো হলে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব।

 ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে নিবেন-

 আপনি যদি নবম ও দশম শ্রেণির পঠিত বইয়ের উপর ভালো ধারনা থাকে তাহলে আপনি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নটরডেম কলেজে একটি আসনে জায়গা করে নাও আপনার জন্য সহজ হবে। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে আপনি আপনার নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের উপর গুরুত্ব বেশি দিতে হবে এছাড়া এর পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞানের বিষয় ভালো ধারণা থাকতে হবে তাই মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অন্যান্য সাধারণ জ্ঞান বই পড়তে পারেন এতে করে সাধারণ জ্ঞানে ভালো করার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এছাড়া গ্রুপ ভিত্তিক বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে ভালো করে এবং পাঠ্যপুস্তক ব্যতীত অন্য সব সিলেবাস অথবা সাজেশন এর উপর নির্ভর করা যাবে না কেবলমাত্র পাঠ্য পুস্তক ভালো থাকবে সেই প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার সম্ভব হবে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য পদার্থ রসায়ন জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত বিষয়ে ভালো ধারণা থাকতে হবে।

যেভাবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রদেরকে  বাছাই করা হয়-

ভর্তি পরীক্ষায় লিখিত এবং ভাইভা এই দুই টাইপ পরীক্ষা হয় । ২০২০সালে শুধুমাত্র রিটেন ( ভার্চুয়াল ) পরীক্ষা হয়েছিলো করোনা পরিস্থিতির কারণে । সব ফলাফলের সমন্বয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় । আশা করা যাচ্ছে , এই বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অবশ্যই সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাগুলোর মতোই ভর্তি পরীক্ষা হবে । সেক্ষেত্রে ভাইভা পুনরায় চালু হবে বিগত প্রতি বছরের ন্যায় ।

বিভাগ পরিবর্তন-

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ব্যবসা ও মানবিক বিভাগ 2 এ যেতে পারবে সে ক্ষেত্রে মানবিক বিভাগের জন্য জিপিএ প্রয়োজন হবে 3.50 এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য জিপিএ 4.50।

 ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে মানবিক বিভাগে যেতে পারবে সেই ক্ষেত্রে জিপি এর প্রয়োজন হবে 3.50।

 তবে কোনো শিক্ষার্থী বাংলা ভার্সন থেকে ইংরেজি ভার্সনে যেতে পারবেনা

নটরডেম কলেজে আসন সংখ্যা-

বিজ্ঞান বিভাগঃ ২০১৮সালে বাংলা ভার্সন 1770 , ইংরেজি ভার্সন 290 ,

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ 750 ,মানবিক বিভাগ এ 400 আসন রয়েছে ।

২০১৯ , ২০২০ এই দুই বছর বিজ্ঞান বিভাগে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন দুই জায়গাতেই ১০টি করে আসন বৃদ্ধি হয়ে বাংলা ভার্সনে 1780জন এবং ইংরেজি ভার্সনে 300 জন করে এডমিট করানো হয় 

ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতি-

 কেবলমাত্র ভর্তি পরীক্ষায় যারা ভালো করবে তারাই ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তাই ভাইবা পরীক্ষায় এমন একটি চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই ভাইভা পরীক্ষায় নিজের কনফিডেন্স ভালো থাকলে ভালো করা সম্ভব সে ক্ষেত্রে ভাইভা পরীক্ষায় যে সকল বিষয়গুলো দেখে ছাত্রের আচার-আচরণ নৈতিক মূল্যবোধ এবং উপস্থিত বুদ্ধি এবং সাধারন জ্ঞান বিষয় গুলো এবং শিক্ষার্থীর আচরনবিধি লক্ষ্য করা হয় তারপরে কোন শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত আছে কিনা সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং কলেজের আচরণবিধি লংঘন করবে এরকম মনোভাব থাকলে সে সকল শিক্ষার্থীকে অনুত্তীর্ণ করা হয়।

 ভাইভা পরীক্ষায় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেতে হবে যেমন চুল ছোট করা তারপর ভালো পোশাক পড়ে যেতে হবে ফরমাল পোশাক পড়ে গেলে সবচেয়ে ভালো 

.


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *