বাংলাদেশে প্রধান কয়েকটি দর্শনীয় স্থান

Share This News

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ঘেরা এই বাংলাদেশ। আয়তনে  এ দেশটি ছোট হলেও এখানে রয়েছে সবুজের সমারোহ এবং অনেক দৃষ্টিনন্দন স্থানসমূহ।  প্রতিবছর এই অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশকে দেখতে ঘুরতে আসে অনেক পর্যটক বাহির থেকে। বাংলাদেশি ঘর থেকে দুপা এগোলেই দেখা যায় সবুজের অরণ্য যা প্রত্যেক বাঙালির হৃদয়ে করে প্রাণবন্ত। তবে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য কিছু দর্শনীয় স্থান গুলোতে প্রতি বছর ঘুরতে যায় বাংলাদেশের মানুষ ছাড়াও অন্যান্য দেশের লোক এখানে ঘুরতে আসে।

কক্সবাজার:

কক্সবাজার  পর্যটন এরিয়ার  মধ্যে অন্যতম একটি স্থান । এখানে প্রতিবছর ঘুরতে আসে অনেক  পর্যটক  বাইরে থেকে। মানুষ ছুটির অবকাশ কাটাতে অনেকেই ছুটে যায় কক্সবাজারে। কক্সবাজার পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। আরে কক্সবাজার থেকেই কিছুটা দূরে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ। যারা কক্সবাজারে ঘুরতে যায় তারা সাধারণত সেন্টমার্টিন দ্বীপের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করাকে মিস করে না।

 কক্সবাজার
দর্শনীয় স্থান কক্সবাজার

কুয়াকাটা:

এটিই বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। কুয়াকাটাকে সাগর কন্যা বলা হয়ে থাকে এর অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে।   ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত।এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র। এটি বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত।

কুয়াকাটা
দর্শনীয় স্থান কুয়াকাটা

সুন্দরবন :

প্রাকৃতিক দৃশ্য বিস্ময় বলির  একটি হল সুন্দরবন বঙ্গোপসাগরের উপকূলেবর্তী  অঞ্চলে অবস্থিত এই সুন্দরবন।ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় ভিন্ন ভিন্ন সূচকে লিপিবদ্ধ রয়েছে। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন।প্রতিবছর হাজারো পর্যটক ঘুরতে আসি সুন্দরবনে। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সুন্দরবন ভ্রমণ করার মাধ্যমে প্রকৃতি থেকে বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন করে।

সুন্দরবন
দর্শনীয় স্থান সুন্দরবন

৪)জাফলং:সিলেটে অবস্থিত জাফলং এর অতি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন যা পর্যটকদের কাছে খুবই দৃষ্টিনন্দন। প্রতি বছর জাফলংয়ে হাজারো লোক ঘুরতে  যায় ।সিলেটের জাফলং পাথরের জন্য প্রসিদ্ধ স্থান এখানে নানা ধরনের পাথর পাওয়া যায়। 

জাফলং
দর্শনীয় স্থান জাফলং

সাজেক উপত্যকা

সবুজে ঘেরা পাহাড় আর মেঘ যেন দৃষ্টি কাড়ে সকল পর্যটকদের।পর্যটন স্থান টি অবস্থিত রাঙ্গামাটি জেলায়। এখানে রয়েছে সবুজের সমারোহ অস্তিত্বে মিশে আছে আদিবাসীদের বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি ও জীবনযাপন।

সাজেক ভ্যালি
দর্শনীয় স্থান সাজেক ভ্যালি

৬।নীলগিরি

 বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবান নীলগিরি অবস্থিত। পর্যটকরা  এক ধরনের বিশেষ গাড়ি  করে এই নীলগিরিতে যেতে হয়। যাওয়ার পথে পাহাড়ি উঁচু-নিচু আঁকাবাঁকা পথ ধরে যেতে হয়। আর পথে পথে উপভোগ করে প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সবুজ অরণ্য। আর পাহাড়ি  আদিবাসীদের জীবন যেন নীলগিরির পথে পথে দৃশ্যমান।  নীলগিরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক  সৌন্দর্য বর্ধনকৃত  একটি স্থান।  স্থানে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারবেন মেঘ-পাহাড়ের এবং সবুজ অরণ্যে অসাধারণ সৌন্দর্য। নীলগিরি  আশেপাশে রয়েছে পাহাড়ি  পর্যটন স্থান  সেগুলো হলো-

  • চিম্বুক পাহাড়
  • সাইরু হিল রিসোর্ট
  • শৈল প্রপাত
  • মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র
  • নীলাচল
  • স্বর্ণমন্দির
  • বগালেক
নীলগিরি
নীলগিরি

কাপ্তাই হ্রদ

কাপ্তাই হ্রদ রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত ।আর এই  কাপ্তাই হ্রদকে  ঘিরে গড়ে উঠেছে রাঙ্গামাটি জেলার পর্যটন শিল্প।কাপ্তাই হ্রদের  উপর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে  বিখ্যাত রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ। এই কাপ্তাই হ্রদের দুই ধারই পাহাড়-টিলা দিয়ে ঘেরা। ট্রলার ভাড়া করে হ্রদ ভ্রমণ করা যায়। ট্রলারে করে যাওয়া যায় শুভলং জলপ্রপাত। লেকের পাড়ে রয়েছে নতুন চাকমা রাজবাড়ি ও বৌদ্ধ মন্দির। 

কাপ্তাই হ্রদ
দর্শনীয় স্থান কাপ্তাই হ্রদ

বাংলাদেশে কিছু স্থান যা পর্যটকদের কাছে খুব জনপ্রিয়।এই সকল স্থান যে বেশ পুরানো এমনটা নয়।
সম্প্রতি এই স্থানগুলোতে পর্যটকরা তাদের অবসর সময়কে উপভোগ করতে যাচ্ছে।আজকে আমরা এমন ছয়টি পর্যটক স্থানের নাম বলবও যা পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়-

নিকলি হাওর

পর্যটকদের কাছে হাওর সবসময়ে অবসরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য আদর্শ স্থান।
আর এই তালিকা জায়গা করে নিয়েছে নিকলি হাওর।
কিশোরগঞ্জের এই নিকলি হাওর সম্প্রতি পর্যটকদের বেশ উপস্থিতিদেখা যাচ্ছে।
ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এই স্থানটি জনপ্রিয় হওয়ার কারণ-
নিকলি হাওরে ঢাকা থেকে একদিনে গিয়ে একদিনেই ফিরে আসা যায়।

তাছড়া নজর কাড়ার মতো রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য্য।

হাওরের মাঝ দিয়ে চমৎকার একটি রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সেই রাস্তার দুই পাশে হাওর। কিছুদূর পর পর বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

তাছাড়া আপনি চাইলে নিকলি হাওরে নৌকা নিয়ে ঘুরতে পারবেন।
বর্ষার দৃশ্য-

বর্ষার সময় রাস্তাটা অনেক সময় পানির নীচে থাকে। তখন রাস্তাটা ধরে অনেকদূর চলে যাওয়া যায়। কাছেই রাতারগুলের মতো একটা জলাবন আছে। ফলে সেখানে গেলে সব ধরনের আমেজ পাওয়া যায়


দেবতাখুম

ঢাকা থেকে দূরে কোথায় ঘুরতে যাওয়ার কথা আসলে পছন্দের প্রথম দিকে আসে বান্দরবানের নাম।
বান্দরবান এমনেতেই একটি পর্যটন এড়িয়া।এই এরিয়াতে বেশ কিছু জনপ্রিয় পর্যটন স্থান রয়েছে।
কিন্তু বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় এর দিক থেকে শীর্ষে অবস্থান করেছে দেবতাখুম।

স্থানটির বিশেষত্ব-
দুই পাশে উঁচু পাহাড়ের মাঝ দিয়ে স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হতে থাকে। সেখানে বাঁশের ভেলা নিয়ে যেতে হয়। দুই পাহাড়ের মাঝে হওয়ায় জায়গাটি খুব শীতল আর রোমাঞ্চকর।
তাছাড়া এর কাছেই রয়েছে আরেকটি পর্যটন স্পট শীলবাধাঁ ঝর্ণা।
তবে এই স্থানে যেতে হলে চলতে হবে কিছু নিয়ম কানুনে।
সেনানিবাসের অনুমতি নিয়ে দেবতাখুম যেতে হয়। সঙ্গে গাইড থাকতে হবে।

সতর্কীকরণ-
বর্ষাকালে এই জায়গায় যাওয়া বিপজ্জনক।

চাঁদপুর ও চাঁদপুরের চর


ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত স্থান হচ্ছে চাঁদপুর।
আর এই চাঁদপুর শহরের পাশেই আছে একটি চর।
যেখানে বর্তমানে ভ্রমণপিপাসুরা তাদের অবসর সময়ে ঘুরতে যায়।স্পটটিতে সবচেয়ে সহজে লঞ্চের মাধ্যমে যাতায়াত করা যায়।

স্থানটির বিশেষত্ব-
মেঘনা নদীর মাঝে গড়ে ওঠা একটি চর পিকনিক পার্টির কাছে আরেকটি মিনি কক্সবাজার হিসাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ইলিশ মাছের মোকাম হিসাবে বিখ্যাত চাঁদপুরে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য থাকে তাজা মেঘনা নদীর ইলিশ খাওয়া ও কিনে আনা।

ঢাকা থেকে স্থানটিতে লঞ্চে করে দিনে গিয়ে দিনে চলে আসা যায়।

মৈনট ঘাট

‘মিনি কক্সবাজার’ হিসাবে পরিচিত পেয়েছে ঢাকার কাছেই দোহার উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরের মৈনট ঘাট ।পর্যটকদের আনাগোনার কারণে এখানে নদী তীরে সমুদ্র সৈকতের মতোই ছাতাসহ বসার ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে।

স্থানটির বিশেষত্ব-

নদী তীরে বালুকাবেলা আর পদ্মা নদীর ঢেউ মিলে অনেকটা সমুদ্র তীরের আদল আসে।‘ঢাকার কাছে মাত্র দুই ঘণ্টায় যাওয়া যায়। নদীর তীরে বিকেলে বসে থাকলে খুব ভালো লাগে।

ঢাকা থেকে বাস বা সিএনজি যোগে মৈনট ঘাট যাওয়া যায়।

মাওয়া ঘাট:
প্রথমে এই এই ঘাটটি ছিলো দক্ষিণবঙ্গের সাথে যোগাযোগের একটি কেন্দ্র হিসাবে। ঢাকার মধ্যে থাকা ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য বর্তমানে এই স্থানটি হয়ে উঠেছে বেশ জনপ্রিয়।
মূলত বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যায়বহুল পদ্মা সেতু দেখতে অনেকে ভীড় করছে স্থানটিতে।

স্থানটির বিশেষত্ব-

এখানে নদীর পাড়ের হোটেলে বসে তাজা ইলিশ মাছ ভাজি ও নানা প্রকার ভর্তা দিয়ে ভাত খাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে নিজস্ব পরিবহন অথবা বাস দিয়ে খুব সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *