ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘ ইউনিটের ভর্তি প্রস্তুতি ;সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চাই সেরা প্রস্তুতি

Share This News

সায়েন্স, কমার্স বা আর্টসের সেই বিষয়গুলো বাদে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায় কেউ তাহলে ‘ঘ ’ ইউনিটই তাদের একমাত্র ভরসা।”ঘ” ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় যেহেতু সকল বিভাগের সমন্বয় অনুষ্ঠিত হয় সেহেতু সকলের কথা চিন্তা করেই প্রশ্ন তৈরি করা হয়। ঘ ইউনিট প্রস্তুতি যদি ভাল হয় তাহলে ঘ ইউনিটের ভর্তির সুযোগ পাওয়া মোটামুটি অন্য বিভাগ থেকে সহজ। ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নপদ্ধতি হয় সকলের বিভাগের কথা মাথায় রেখে। বিভাগীয় কোন  বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয় না। তাই “ঘ” ইউনিটের প্রস্তুতি যদি তুমি ভালোভাবে নিতে পারো তোমার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছায়াসুনিবিড় ক্যাম্পাসে একটা  আসন তোমার দখলে থাকবে।

আজ বিস্তারিত জানাবো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “ঘ” ইউনিটের ভর্তি প্রস্তুতি সম্পর্কে।

আমরা প্রথমে দেখিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ ‘ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নের মানবন্টন-

করোনা পরিস্থিতির কারণেই এই বছর প্রশ্নের মানবন্টন এসেছে কিছু পরিবর্তন এছাড়া এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়াতে  জিপিএ নম্বরের উপর বরাদ্দকৃত নাম্বারের আসছে পরিবর্তন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২ ভাগে।একটি বহু নির্বচনী অন্যটি লিখিত

 বহুনির্বাচনী (MCQ) এর নম্বর বন্টন

বিষয়প্রশ্ন সংখ্যানম্বর
বাংলা / Advanced English*১৫১৫
ইংরেজি১৫১৫
সাধারণ জ্ঞান৩০৩০
মোট৬০টি৬০ নম্বর

বহুনির্বাচনী অংশে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য বরাদ্দকৃত থাকবে এক নম্বর আর প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য নাম্বার থেকে কর্তন করা হবে 0.25 নম্বার।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় লিখিত অংশের মান বন্টন-

বাংলা/ Advanced English*১৫
ইংরেজি১৫
সাধারণ জ্ঞান (বিশ্লেষণধর্মী)১০
মোট৪০ নম্বর।

ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কিভাবে হিসাব করা হবে জিপিএ নাম্বার-

মাধ্যমিক/সমমান ও উচ্চমাধ্যমিক/সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১০ + ১০ = ২০ নম্বর ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সাথে যােগ করা হবে। সেক্ষেত্রে ছাত্র/ছাত্রীদের মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএকে (৪র্থ বিষয়সহ) ২ দিয়ে এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ-কে (৪র্থ বিষয়সহ) ২ দিয়ে গুণ করে ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের সাথে যােগ করা হবে।

ভর্তি পরীক্ষায় পাশ নাম্বার-

বহুনির্বাচনী অংশ  বাংলা ৫ নম্বার এবং ইংরেজিতে ৫ নম্বর সাধারণ জ্ঞান অংশে ১০নম্বার সর্বমোট ২৪ নম্বর পেলে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী সাধারণ নির্বাচন অংশে উত্তীর্ণ হবে।

 লিখিত অংশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী লিখিত অংশের ন্যূনতম ১০পেতে হবে। পাশের জন্য শিক্ষার্থীকে সর্বমোট ৪০নম্বর পেতে হবে। 

আমরা উপরোক্ত বিষয়গুলোর লিখিত ও mcq অংশেই কিভাবে ভর্তি পরীক্ষা ভালো করতে পারি তার ধারনা নেই-

 প্রথমে আসি বাংলার প্রস্তুতি-

বাংলায় ভালো করতে হলে বাংলা পাঠ্য বইয়ের উপর গুরুত্ব থাকতে হবে সর্বাধিক এবং সেই সাথে বাংলা সাহিত্যের সাধারণ কিছু জ্ঞান থাকতে হবে এবং বাংলা ব্যাকরণের নবম এবং দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বইয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভালোভাবে আয়ত্ত থাকতে হবে । তোমাদের প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং প্র্যাকটিস করার জন্য তোমাদের প্রয়োজন হবে যেকোনো একটি প্রশ্ন ব্যাংক যা থেকে তুমি প্রয়োজনীয় প্রশ্ন গুলো সমাধান করতে পারবে এবং প্রশ্ন সম্পর্কে তোমার মোটামুটি ভাল ধারণা নিতে পারবে।মনে রাখবে মূলবইয়ের বিকল্প বলতে কিছুই নেই।

ইংরেজি বিষয়ের প্রস্তুতি-

 ইংরেজি বিষয়ে আমরা পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বই গুলোর উপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলি যার কারণে অনেক সময় আমাদের পরীক্ষা হয়ে যায় হ-য-ব-র-ল। আমাদের ইংরেজি ভালো করতে হলে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে ইংরেজি টেক্সট বই এবং ভালো মানের একটি গ্রামার বই। ইংরেজি প্রথমপত্র পাঠ্যবই এর শুরু থেকে শেষটা  বুঝে বুঝে পড়ে নাও সেইসাথে শব্দের সমার্থক শব্দ এবং বিপরীতার্থক শব্দ গুলো খুঁজে নোট করও ।

ইংরেজি গ্রামারে ভালো করতে হলে আমাদের ইংরেজি গ্রামার বইয়ের ৮ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ইংরেজী বিষয়ের টপিক্স গুলোর উপর আলোকপাত করতে হবে।  ইংরেজি গ্রামারের রুলস গুলো মুখস্থ না করে রুলস গুলো বুঝে বুঝে পড়ও  সেইসাথে রুলস আঙ্গিকে  প্রশ্নের সমাধান করও।  ইংরেজি গ্রামারে তুমি বিগত ক্লাস গুলোতে যে টপিক গুলো পড়ছো সেগুলো আবার পুনরায় দেখে নাও এবং বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রশ্ন সমাধান করার চেষ্টা করো। সাথে রাখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “ঘ” ইউনিটের একটি প্রশ্ন ব্যাংক যাতে করে তুমি বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে পারো যাতে প্রশ্ন বুঝতে তোমার অসুবিধা না হয়।

 ইংরেজি পত্রিকা পড়ার অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে এতে করে দুইটা সুবিধা একটা হচ্আছে ইংরেজী ভোকাবুলারি ভালোভাবে আয়ত্ত্ব হবে সে সাথে সাধারণ জ্ঞান আন্তর্জাতিক অংশে ভালো করা সহজ হয়ে যাবে।

 ইংরেজি ভালো করতে বেসিক এর উপর ভালো ধারণা থাকা অবশ্যই অবশ্যই জরুরী। তাই বেস ক্লিয়ার করে নাও তাহলে ইংরেজি তে সর্বোচ্চ নম্বার উঠবে আশা করা যায়।

সাধারণ জ্ঞান বিষয় প্রস্তুতি-

আমাদের  উপরের ২ টি  বিষয়ে বিষয়ে সামগ্রীক সিলেবাস ছিল কিন্তু সাধারণ জ্ঞান অংশ ্সিলেবাস বহির্ভূত অংশ তাই এই অংশটি ভালো করতে হলে আমাদের অবশ্যই কিছু টেকনিক এবং মেথড অনুসরণ করতে হবে।

 সাধন সাম্প্রতিক বিষয় খুব বেশি-

 সাম্প্রতিক যে বিষয়গুলো সম্পর্কে তথ্যাদি জানতে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে সেটা বাংলা হোক ইংরেজি হোক। পত্রিকা পড়লেই সাম্প্রতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে সেরা ধারণা তৈরি হবে কিন্তু সবচেয়ে ভালো হয় ইংরেজি পত্রিকা পড়তে পারলে তাহলে ইংরেজি বিষয়ভোকাবুলারি ও আন্তর্জাতিক অংশ ভালো করা সহজ ।

সাম্প্রতিক বিষয় ভালো করতে হলে প্রতি মাসে বাজারে পাওয়া যায় মাসিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রকাশিত হয়   এমন বই অনুসরণ করা যেতে পারে। তবে যেহেতু বিগত বছরগুলোতে তুমি পরীক্ষা দাও নাই বা বিগত বছর পরীক্ষা দিলে তুমি এবছর সুযোগ পেতে না সেহেতু তোমার বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে ধারণা নাই।ধারণা না থাকার কারনে পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রশ্ন সম্পর্কে এক ধরনের ভীতি তৈরি হতে পারে তোমার মধ্যে।তাই সাধারণ জ্ঞানের ভীতি দূর করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রশ্ন ব্যাংক নিয়ে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখে নাও। যাতে করে তোমার কাছে প্রশ্নটা মনে হয় চিরচেনা প্রশ্ন অর্থাৎ পূর্বে পরীক্ষা দিয়েছো এমনটা মনে হয় ।

 ইতিহাসের উপর আমাদের নজর দিতে হবে-

বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি  রয়েছে ইতিহাস সমৃদ্ধতা  তাই বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের পূর্বের অবস্থায় ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মধ্য যুগ প্রাচীন যুগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে ।প্রাচীন রাজাদের এবং প্রাচীন শাসকদের সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে ব্রিটিশ শাসন এবং অন্যান্য শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করতে হবে।

আমাদের অনেকের এমন হয়ে থাকে যে সাল মুখস্ত হয় না যা কিন্তু যা আমাদের পরীক্ষাতে বিপাকে ফেলে তাই  আমাদের সাধারন জ্ঞান বিষয়ক সামগ্রিক একটা ধারণা থাকা চাই । তবে এই ক্ষেত্রে আমরা যদি কোন সাল মুখস্ত না হয় মুখস্ত করার দরকার নেই সে বিষয়টা কয়েকবার রিডিং পড়ে নিব যাতে করে আমাদের বহুনির্বচনীতে আসলে আমরা ধরে নিতে পারি কোনটা হবে এটা সঠিক উত্তর।

 প্র্যাকটিস করে প্রতিদিন-

একদিন খুব বেশি পড়েছ আবার পরের দিন পড়ো নাই এমনটা করা যাবে না। প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়া সর্বোত্তম। তাই প্রতিদিন পড়ার টেবিলে বসতে হবে।ভর্তি প্রস্তুতির জন্য।প্রতিদিনের ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের একটি আসন কল্পনাতে রেখে পড়তে বসও।

একটি আসন যাতে তোমরা দখল করে নিতে পারো সেইসাথে এই আসন থেকে তুমি বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে কিছু তৈরি করতে পারো সেই প্রত্যাশা থাকলো ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন-

ঢাবি “গ”ইউনিটের ভর্তি প্রস্তুতি ; সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চাই সেরা প্রস্তুতি

ঢাবি “খ”ইউনিটের ভর্তি প্রস্তুতি ; সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চাই সেরা প্রস্তুতি


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *