ক্যান্সার কেন হয়?

Share This News

বাংলাদেশ প্রতি  বছর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বহু লোক মারা যায়। বাংলাদেশে এখনও অনেক লোক আছে যারা দেহে ক্যান্সার নিয়ে এখনও চলাফেরা করছে বা ক্যান্সার সম্পর্কে অবগত না।

বাংলাদেশে  ক্যান্সারে মৃত্যুর হার  কেন এত বেশি তা এখন ভাবার বিষয়।বিশ্বে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ এর দিক দিয়ে বাংলাদেশ এর মধ্যে অন্যতম।আমরা যদি ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে অবগত হই তাহলে আমরা অনেকটাই ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম হব।

আরো পড়ুন-

কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে মেনে চলুন কিছু পরামর্শ

মুখের ঘায়ের ঘরোয়া প্রতিকার

মুখের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে ব্যায়াম

ক্যান্সার থেকে বেঁচে থাকতে আমাদের কিছু খাবার এবং কিছু অভ্যাস পরিহার করতে হবে। কি কি খাদ্যাভ্যাস এবং আমাদের জীবনযাপনের কোন কোন দিকের কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় সেগুলো সম্পর্কে জানা যাক-

পোড়া খাবার গ্রহণ

 এই বিষয়ের উপর আমরা একটু আলোকপাত করি ।বাংলাদেশ বেশিরভাগ মানুষ এই পোড়া খাবার খাওয়াতে অভ্যস্ত। বাংলাদেশি যে আমরা হোটেল বা রেস্টুরেন্টে খেয়ে থাকি সেগুলোতে বেশিরভাগ খাবার হচ্ছে পোড়া  খাবার এবং  এই পোড়া খাবারগুলো দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর  তেল ব্যবহার করে। খাবার মুখরোচক বিদায় এটা আমাদের প্রিয় খাবারের মধ্যে একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশের মানুষ সকাল এবং বিকেলে হালকা নাস্তা  পোড়া খাবার রেখে থাকে। তাছাড়া আমরা আমাদের খাবারের তেল ব্যবহার করি সয়াবিন অয়েল যা  ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

 এসব খাবার আপনাকে স্মোকি ফ্লেভার দিলেও এতে থাকা হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস এবং পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনস পাকস্থলি, মলাশয় ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

ধোঁয়া

কলকারখানার ধোঁয়া এবং যানবাহনের  ধোয়া আমাদের ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। ডিজেল ও পেট্রল বিষাক্ত কার্বন-মনোক্সাইড ও হাইড্রোকার্বন  বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করে।

তামাক জাত দ্রব্য সেবন

বাংলাদেশ এখন কিশোর এবং যুবসমাজ বেশিরভাগই বিভিন্ন নেশায় আক্রান্ত। তারা বেশিরভাগই তামাকজাত দ্রব্য সেবন করে। যা ক্যান্সারের আক্রান্তের  ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

মদ্যপান

অতিরিক্ত মদ্যপান ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে দুবার অ্যালকোহল গ্রহণ খাদ্যনালির ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, রেকটাম ক্যানসার ঝুঁকি বাড়ায়। পাকস্থলিতে অ্যাসিড সৃষ্টি করে অ্যালকোহল এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যার জন্য দায়ী।

মুখে ও ত্বকে প্রসাধনী ব্যবহার করে-

বাংলাদেশ এখন স্কিন ক্যান্সারের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় স্কিন ক্যান্সার এর মূল কারণ হচ্ছে বাজারের বিভিন্ন প্রসাধনী। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন প্রসাধনী পাওয়া যায় যেগুলো কিনা অনুমোদনবিহীন। তাছাড়া বিদেশি প্রসাধনী কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে তৈরি করে যার ফলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে আমাদের ত্বকে বিভিন্ন আলসার সৃষ্টি হয় পরবর্তীতে একসময় এটি ক্যান্সারে রূপ নেয়।

ডায়েট সোডা পান

বেশ কিছু সোডায় উচ্চমাত্রায় ৪-মিথাইলিমিডাজোল (৪-এমআই) রয়েছে, যা অ্যানিমেল কার্সিনোজেন হিসেবে পরিচিত। ডায়েট সোডায় কৃত্রিম মিষ্টদ্রব্য থাকে, যা অগ্ন্যাশয়সহ বিভিন্ন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু গবেষণা বলছে, ডায়েট সোডার কারণে মূত্রাশয় ও মস্তিষ্কে টিউমার হতে পারে।

অনিয়মিত খাদ্যভাস-

আমরা অনেকেই নিয়মমাফিক খাওয়া দাওয়া করিনা। নির্দিষ্ট সময়ের খাবার নির্দিষ্ট সময়ে না খেয়ে অন্য সময় খাই। এতে দেখা যায় আমাদের এসিডের মাত্রা বেড়ে যায় এবং জাতিকে একসময় আলসারের পরবর্তীতে ক্যান্সারে রূপ নেয়।

রাত জেগে কাজ

রাত জেগে কাজ করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ রাত জেগে কাজ করলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

তাছড়া ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার জন্য কিছু সাধারণ অভ্যাস রয়েছে। ধূমপান, অতিরিক্ত স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকার খাদ্যাভ্যাস, কম ফলমূল ও শাকসবজি গ্রহণ, শরীরচর্চার অভাব, অতিরিক্ত মদ্যপান, বায়ুদূষণ হত্যাদি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *