দোয়া কবুলের এই রমজানে জেনে নিন কিছু অন্যতম আমল ও দোয়া

Share This News

রমজানে এমন একটি মাস যে মাস আমাদের নিজেকে যাবতীয় গুনাহ থেকে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে পরিশুদ্ধ করার মাস। এই মাস আল্লাহতালা রহমত ও বরকতের মাস। এই মাসে  একমাস সিয়াম সাধনার পালন করে মুসলমান মুমিনরা। আল্লাহতালা বলেন যারা আল্লাহ তা’আলার জন্য রোজা রাখেন আর এই রোজার বিনিময় আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে দিবেন। তাই রোজা আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার অপূর্ণ সুযোগ। তাই আমরা রমজানে বেশি করে দোয়া করব আল্লার কাছে আল্লাহ যাতে আমাদের পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়। আমরা যাতে আল্লাহ প্রিয় পাত্র হতে পারি সে জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করব। আর এই মাসে গুনাহ মাফের মাস তাই আমরা যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজেকে বিরত রাখবো এবং নিজেকে পাপাচার থেকে বিরত রেখে আল্লাহর আদেশ নির্দেশ অনুসরণ করব যাতে পরবর্তী মাসগুলোতে আমরা যাতে নিজেকে পাপাচারে থেকে মুক্ত রাখতে পারি । আমরা আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করব আমাদের জন্য আমাদের পরিবারের জন্য এবং আমাদের নিকট আত্মীয় এবং আমাদের যাবতীয় মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।

আর এই দোয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেন

মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো জিনিস নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮২৯)

 এই জন্য পবিত্র এই মাসে আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে দোয়া করব যাতে আল্লাহ তাআলা কাছে আমরা চিরস্থায়ী জান্নাত পাই এবং আমাদের পার্থিব জীবন এবং আখেরাতের জীবন সুখী হয় সে জন্য দোয়া করব। আর এই মাসে রয়েছে বিশেষ কিছু সময় যে সময় আমাদের ইবাদত কবুল হওয়ার সময়।

আবু হুরায়রা (রা.)হতে বর্ণিত , রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ধরনের লোকের দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।

 ১. রোজাদার যখন ইফতার করে,

 ২. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া, 

৩. মজলুমের দোয়া।

আল্লাহ তাআলা এই তিন শ্রেণীর ব্যক্তিদের দোয়া খুব দ্রুত কবুল করেন এবং এর প্রতিদান আল্লাহ তালা নিজ হাতে দিয়ে থাকেন তাই আমরা ইফতারের সময় মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে বেশি করে দোয়া করব।

এই মাসে আমরা  তাহাজ্জুদের প্রতি মনোযোগ দিতে পারি প্রতিরাতেই সেহরি খাওয়ার সময় আমরা তাহাজ্জুতের নামায পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করব এবং আল্লাহর কাছে নিজের মনের কথাগুলো খুলে বলব।

রাসুল (সা.) বলেছেন,

হে কল্যাণের প্রত্যাশী, অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের প্রার্থী, থেমে যাও। আর আল্লাহ তাআলা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দান করেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮৭৯৪)

 ই মাসের শেষ রমজানে লাইলাতুল কদরের রাত যা হাজারো রাত অপেক্ষা উত্তম। রমজানের শেষ ১০ দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন হচ্ছে লাইলাতুল কদর আরে লায়লাতুল কদর রাত সর্বাপেক্ষা উত্তম এবং লাইলাতুল কদর রাতে যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং এই রাতের ইবাদত রয়েছে বিশেষ ফজিলত।

রাসুল (সা.) সাহাবাদের বলতেন, ‘তোমাদের কাছে এই মাস সমাগত হয়েছে, তাতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষে সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত। একমাত্র দুর্ভাগাই এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৪৪)

রমজানের রাতে আমরা আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করি আল্লাহর কাছে তওবা করব এবং রমজানের সেহরির সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করব কারণ সাহরীর সময় দোয়া আল্লাহ কবুল করে থাকেন। এছাড়া প্রতি রাতেই বাড়তি ইবাদত চেষ্টা করব এবং কুরআন-হাদিস নিয়মিত আমরা অধ্যায়ন করব। কোরআন নাজিলের মাস এই মাসে কুরআন বুঝে পড়ার চেষ্টা করব এবং নিজে কোরআন পড়বও এবং অন্যকে কোরআন পড়তে উৎসাহিত করবও ।মহান আল্লাহ সবাইকে পবিত্র রমজান মাসে বেশি বেশি দোয়ায় মশগুল থাকার তাওফিক দান করুন- আমিন।


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *