অ্যাসাইনমেন্টে ভালো করার যত উপায়; নিজ যোগ্যতা অ্যাসাইনমেন্ট করও অন্যের দেখাদেখি না

Share This News

মহামারীর কারণে গত বছরের ১৭ ই মার্চ থেকে দেশে  সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।  শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়ন করা হচ্ছে অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে ।  মূলত শিক্ষার্থীদের  ঘরে বসে শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা যা শিখছে তার উপর ভিত্তি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট প্রদান করছে।  আর এই মেধা মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হচ্ছে অতি উত্তম, উত্তম ভালো অগ্রগতি প্রয়োজন এ চারটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের ভাগ করা হচ্ছে।

 আমরা এখন জানবো কিভাবে এই ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা কার্যক্রমে  নিজেকে ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যায়।

প্রথমে আসি মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রণীত অ্যাসাইনমেন্টের ধরন কেমন-

সাধারণত শিক্ষা অধিদপ্তর  প্রণীত অ্যাসাইনমেন্টের  ধরন হচ্ছে সৃজনশীল । আর এই সৃজনশীল প্রশ্ন গুলো উত্তর করার জন্য প্রয়োজন বইয়ের উপর ব্যাপক ধারণা।  বইকে ভালোভাবে পড়া এবং বুঝে বুঝে পড়া। শিক্ষকদের অনলাইন কার্যক্রমে ভালোভাবে মনোযোগ দেওয়া এবং টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা। সাধারণত এ ধরনের প্রশ্ন গুলো যত সৃজনশীল চিন্তা করা যায় তত ভালো উত্তর করা যায়। সাধারণত গাইড বই অনুসরণ করলে এধরনের প্রশ্নগুলো উত্তর করা কখনও সম্ভব না। তাই প্রথমে গাইড বই চিন্তা মাথা থেকে বের করে দিতে হবে।  কেবলমাত্র তোমাদের পাঠ্য বইয়ের উপর মনোযোগ হতে হবে। অ্যাসাইনমেন্টের বিষয়গুলো বুঝে পড়তে হবে। যে সকল বিষয় বুঝতে অসুবিধা হয় সে সকল বিষয়ে শিক্ষকদের পরামর্শ নিয়ে বুঝার চেষ্টা করতে হবে। এ ধরনের প্রশ্নগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ঘটায় তাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যথাসম্ভব নিজের সৃজনশীলতা থেকে দেওয়াই ভালো।

দ্বিতীয়তে  আসি অ্যাসাইনমেন্ট করার ক্ষেত্রে কি করবো না-

অন্যের দেখা দেখি কোন অ্যাসাইনমেন্টে করবে না নিজ যোগ্যতায় অ্যাসাইনমেন্টে করার চেষ্টা করবে। যে টপিকের উপরে এসাইনমেন্ট দেয়া হয় সে টপিক ভালোভাবে কয়েকবার পড়তে হবে। অ্যাসাইনমেন্টে এর নির্দেশিত কিছু নিয়ম দেওয়া থাকে ঐ  নিয়মগুলো অনুসরণ করতে হবে এবং টপিক উল্লেখ করা থাকে ঐ টপিক গুলো ভালো করে পড়ে অ্যাসাইনমেন্টে করার চেষ্টা করতে হবে। অনলাইনের সাহায্য নিয়ে অযথা নিজের মেধা বিকাশের ব্যাঘাত না ঘটানো  সবচেয়ে ভালো।  তাই ফেসবুক ইউটিউব অথবা গুগোল থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা নিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট করব না।  প্রয়োজনে শিক্ষকদের সহযোগিতা নিব।

তৃতীয়ত আসি যা করতে হবে-

নির্দেশিত  অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়ার পর অ্যাসাইনমেন্ট এর বিষয়বস্তুকে  কয়েকবার ভালোভাবে পড়তে হবে এবং নির্দেশিত তথ্য গুলো অনুসরণ করতে হবে। টপিক এর উপরে  এসাইনমেন্ট প্রদান করা হয় ওই টপিকটা  বই খুলে কয়েকবার দেখে নিতে হবে । পরবর্তীতে নিজে যতটুকু পারি ততটুকু করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে অন্যের দেখাদেখি অতি উত্তম মূল্যায়ন পাওয়ার চেয়ে নিজ যোগ্যতায় ভালো মূল্যায়ন অধিক উত্তম। কারণ যখন তোমরা বুঝতে পারবে যে  আরেকটু ভালো করার  প্রয়োজন তখন তোমরা পড়ার প্রতি আগ্রহী হবে। আর যখন অন্যের দেখাদেখি অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন  করবে তখন নিজের পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে । 

তোমাদের প্রতি সর্বশেষ  পরামর্শ হল নিজেকে জানার চেষ্টা করো ভালোভাবে পাঠ্যবই অনুসরণ করো। শিক্ষকদের ক্লাস অনলাইনে নিয়মিত কর এবং টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম গুলো অনুসরণ করো।  পিতা-মাতা ও বড়দের  থেকে সাহায্য নিয়ে ভালো পড়ালেখা চালিয়ে যাও। এ করোনা একদিন নির্মূল হবে কিন্তু  তুমি যদি পিছিয়ে যাও সামনে যেতে তোমাকে অনেক বেগ পৌহাতে হবে । তাই এই করোনায় নিজ চেষ্টায় ভালোভাবে পড়ার চেষ্টা করো ।একটা কথা আছে  “স্বশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত”। 

আরো পড়ুন-

পড়া দ্রুত মুখস্থ করার সিক্রেট টিপস

যাদের অসীম সাহসিকতায় আমাদের এই ভূখন্ড


Share This News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *